• ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৬ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী

Editorial panel
প্রকাশিত মার্চ ১৭, ২০২২
সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী

বাংলা সাহিত্যের প্রথম দিকে মুসলিম জাগরণের অন্যতম দিকপাল ছিলেন সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী । ব্রিটিশ ভারতের পাবনা জেলার সিরাজগঞ্জ মহকুমার বানীকুঞ্জ গ্রামের ভেষজ চিকিৎসক পিতা আব্দুল করিম খন্দকার এবং মাতা নূরজাহান খানমের গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন তিনি । মুসলিম পুনর্জাগরণে তাঁর সমসাময়িক বিশিষ্ট ইসলামী সাহিত্যিক ও চিন্তাবিদ আল্লামা শিবলী নোমানী ও আল্লামা ইকবাল কর্তৃক বেশ প্রভাবান্বিত হয়েছিলেন যা তাঁর রচনায় স্পষ্ট ভাবেই ফুটে উঠেছে ।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী জন্মগ্রহণ করেন – ১৮৮০ সালের ১৩ জুলাই, বানীকুঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ।

ইসমাইল হোসেন সিরাজীর শিক্ষা জীবন – সিরাজগঞ্জ বনোয়ারী লাল হাই স্কুলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও তিনি ফার্সি, সংস্কৃত ব্যাকরণ ও সাহিত্য এছাড়া বেদ, উপনিষদ, মনুম্মৃতি প্রভৃতি অধ্যয়ন করেছিলেন ।

নামের শেষে তিনি সিরাজী উপাধি ব্যবহার করতেন – জন্মস্থানের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য (সিরাজগঞ্জের সিরাজী) । সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর প্রথম রচনার নাম – ‘অনল প্রবাহ’ ।

’অনল প্রবাহ’ কাব্য গ্রন্থের জন্য লেখককে – দু’বছর সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছিল ।

ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত ‘অনল প্রবাহ’ কাব্যের কবিতাগুলোর বিষয়বস্তু – মুসলিমদের দুরবস্থা ও অধ:পতনের বর্ণনার মাধ্যমে ইংরেজদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ ।

’অনল প্রবাহ’ কাব্যের কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে – অনল প্রবাহ, তূর্যধ্বনি, মূর্চ্ছনা, বীর – পূজা, অভিভাষণ : ছাত্রগণের প্রতি, মরক্কো-সঙ্কটে প্রভৃতি (মোট ৯টি কবিতার সমন্বয়ে রচিত) ।

কারাগারে থাকাকালীন তিনি যে গ্রন্থটি রচনা করেন ‘কারা কাহিনী’ নামক প্রবন্ধ গ্রন্থ (গ্রন্থটি মাসিক সাধনা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়) ।

স্বাধীনতা ও জাতীয় মুসলিম জাগরণের জন্য কবিতা লিখে প্রথম বিট্রিশদের রোষানলে পড়ে কারাবরণে বাধ্য হয়েছিলেন – সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ।

তাঁর জীবদ্দশায় বক্তৃতা ও সভাস্থলে ব্রিটিশ সরকার সর্বমোট ১৪৪ ধারা জারি করেছিল – ৮২ বার ।

ইসমাইল হোসেন সিরাজী যে যে পত্রিকায় তার লেখা প্রকাশ করতেন – আল-এসলাম, প্রবাসী, কোহিনূর, সোলতান, সওগাত, মোহাম্মদী, নবযুগ, নবনূর প্রভৃতি ।

দামেস্কোর মুসলিম বীর তারিক বিন জিয়াদ ও স্পেনের সম্রাট রডারিকের যুদ্ধের কাহিনী নিয়ে তিনি রচনা করেন – ‘স্পেন বিজয়’ কাব্যটি ।

মহাকাব্যের ধারায় রচিত ইসমাইল হোসেন সিরাজীর ‘স্পেনবিজয়’ কাব্যটি প্রকাশিত হয় – ১৯১৪ সালে ।

ইসমাইল হোসেন সিরাজী ‘আল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল মিশনের সদস্য হয়ে তুরস্কের পক্ষে যে যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন – বলকান যুদ্ধে (১৯১২ সালে সংঘটিত হয়েছিল) ।

তুরস্কের সুলতান সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীকে উপাধি প্রধান করেন – ‘গাজী’ উপাধি ।

’সঙ্গীত-সঞ্জীবনী’ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর যে শ্রেণির রচনা – গানের সংকলন (৩৩ টি গানের সমন্বয়ে রচিত) ।

রবীন্দ্রনাথের গীতাঞ্জলী গীতিকাব্য অনুসারে ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচনা করেন – ‘প্রেমাঞ্জলি গীতিকাব্য (১২৮ টি গানের সংকলন) ।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী রচিত অন্যান্য কাব্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে – উচ্ছাস (১৯০৭), উদ্ধোধন (১৯০৭), নবউদ্দীপনা (১৯০৭), মহাশিক্ষা মাহাকাব্য প্রভৃতি ।

তিনি বঙ্গিমচন্দ্রের দুর্গেশনন্দিনী উপন্যাসের জবাব হিসেবে রচনা করেন – ‘রায়নন্দিনী’ উপন্যাস । ’ঈশা খাঁ ও স্বর্ণময়ী’ যে উপন্যাসের চরিত্র – ইসমাইল হোসেন সিরাজীর ‘রায়নন্দিনী’ উপন্যাসে ।

মুসলিম বীর ঈশাখাঁর রূপ লাবণ্যের মুগ্ধ হয়ে ভালবেসে স্বর্ণময়ী ‍নিজধর্ম ত্যাগ করে তাকে বিবাহ করে, এছাড়া বহুতর উচ্চশ্রেণির ব্রাহ্মণ পরিবার ক্রমশ: ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হন প্রভৃতি বিষয়বস্তু – রায়নন্দিনী উপন্যাসের । ইসমাইল হোসেন সিরাজীর রায়ন্দিনী উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় – ১৯১৫ সালে । সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর অন্যান্য উপন্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে – তারাবাঈ (১৯১৮), নূরউদ্দিন (১৯১৯), জাহানারা (১৯৩১), বঙ্গ ও বিহার বিজয় (১৮১৯) ফিরোজা বেগম (১৯১৮) প্রভৃতি । ”হিন্দু মুসলমানের অন্তরে সমভাবে দেশপ্রেম সৃষ্টির কাজে যাঁহারা আমাদের পথ প্রদর্শন করিয়াছেন নি:সন্দেহে সিরাজী সাহেব তাহাদের অগ্রণী” সিরাজী সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন – নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু ।

”মুসলামনাদের বিশ্ব সভ্যতায় স্থান নিতে হলে তাদের ডান হাতে কুরআন আর বাম হাতে বিজ্ঞান নিয়ে অগ্রসর হতে হবে” উক্তিটি করেছেন – ইসমাইল হোসেন সিরাজী ।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন – খিলাফাত ও অসহযোগ অন্দোলনে সাথে (১৯১৯-১৯২৩ সাল পর্যন্ত) ।

”পুরুষ সামাজের দেহ, আর মাতৃজাতি সেই দেহের আত্মা” উক্তিটি করেছেন – ইসমাইল হোসেন সিরাজী ।

’স্বজাতি প্রেম’ ও ’তুর্কি নারী জীবন’ ইসমাইল হোসেনর যে শ্রেণির রচনা – প্রবন্ধ গ্রন্থ । তাঁর অন্যান্য প্রবন্ধ গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে – আদব কায়দা শিক্ষা, স্পেনীয় মুসলমান সভ্যতা, সুচিন্তা, মহানগরী কর্ডোভা প্রভৃতি ।

”আর ঘুমিও না নয়ন মেলিয়া উঠবে মোসলেম উঠবে জাগিয়া আলস্য জড়তা পায়েতে ঠেলিয়া” মুসলিম পুনর্জাগরণের এই উক্তিটি করেছেন – সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী (অনলপ্রবাহ কাব্যের প্রথম অনুচ্ছেদে) ।

সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজীর অপ্রকাশিত গ্রন্থগুলির মধ্যে রয়েছে – আবে হায়াৎ পুষ্পাঞ্জলি, সুধাঞ্জলি, গৌরব কাহিনী প্রভৃতি । ”বঙ্গভাষাকে হিন্দুর ভাষা মনে করিও না—-মাতৃভাষা বাংলাকে সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করিতে সযত্ন হও “ মাতৃভাষা বাংলা সম্পর্কে উক্তিটি করেছেন – ইসমাইল হোসেন সিরাজী । মুসলিম নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী পরলোকগমন করেন – ১৭ জুলাই, ১৯৩১ সালে (মাত্র ৫১ বছর বয়সে) ।