• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

সুলতান মাহমুদুর রহমান বাবু

Editorial panel
প্রকাশিত জুলাই ২৭, ২০২৬
সুলতান মাহমুদুর রহমান বাবু

মানবতার দীপশিখা, গণতন্ত্রের অকুতোভয় পথযাত্রী

বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের পরিচয় কেবল রাজনৈতিক পদ-পদবিতে সীমাবদ্ধ নয়। তাঁদের জীবন হয়ে ওঠে মানবসেবা, দেশপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।

সুলতান মাহমুদুর রহমান বাবু তেমনই এক ব্যক্তিত্ব। গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রোটারিয়ান, ক্যানসার সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট, হার্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক, ঢাকা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাহানারা ফাউন্ডেশনের সভাপতি এবং যাদুঘর সুহৃদ হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সমাজ ও মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ভূমিকা পালন করে আসছেন।

পুরাতন ঢাকার এক ঐতিহ্যবাহী ও অভিজাত পরিবারে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি পারিবারিক ঐতিহ্যকে কেবল বংশমর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই সেই ঐতিহ্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁর বিশ্বাস-মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার মানবিকতায়, তার কর্মে এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসায়।

রাজপথের আন্দোলন, গণতন্ত্রের সংগ্রাম এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার বিকাশে তিনি ছিলেন প্রথম সারির একজন দৃঢ়চেতা নেতা। রাজনৈতিক মতপার্থক্যকে কখনো ব্যক্তিগত বিদ্বেষে পরিণত না করে তিনি সংলাপ, সহমর্মিতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল মানুষ, মানবাধিকার এবং ন্যায়বিচার।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন- সকলের তরে সকলে আমরা, প্রত্যেকে আমরা পরের তরে। এই চিরন্তন বাণী যেন সুলতান মাহমুদুর রহমান বাবুর জীবনদর্শনেরই প্রতিধ্বনি। মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর সৈনিক হিসেবে তিনি স্বাধীনতার চেতনাকে শুধু স্মৃতির পাতায় নয়, বাস্তব জীবনের কর্মে ধারণ করেছেন। স্বাধীনতার অর্থ তাঁর কাছে কেবল একটি রাষ্ট্রের জন্ম নয়। বরং ন্যায়, সাম্য, মানবিকতা এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক অবিরাম অঙ্গীকার।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। ক্যানসার সোসাইটি এবং হার্ট ফাউন্ডেশনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক সহায়তা এবং জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই যেন তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন।

জীবনানন্দ দাস লিখেছিলেন- ‘আবার আসিব ফিরে ধানসিঁড়িটির তীরে-এই বাংলায়। বাংলার প্রতি এই গভীর মমত্ববোধ যেন সুলতান মাহমুদুর রহমান বাবুর জীবনেও প্রতিফলিত হয়েছে। তাঁর প্রতিটি উদ্যোগে দেশ, সমাজ এবং মানুষের প্রতি আন্তরিক ভালোবাসার ছাপ স্পষ্ট।

বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিকে করেছে আরও বিস্তৃত। মানবতার কল্যাণে নিবেদিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে পরিচয় ও যোগাযোগ তাঁর চিন্তার পরিসরকে সমৃদ্ধ করেছে এবং সমাজসেবায় নতুন অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

জাহানারা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শিক্ষা, মানবসেবা ও সামাজিক উন্নয়নের যে উদ্যোগ তিনি গ্রহণ করেছেন, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর বিশ্বাসং/শিক্ষিত, সচেতন ও মানবিক সমাজই একটি উন্নত রাষ্ট্রের ভিত্তি।

পেশা, রাজনীতি কিংবা সামাজিক কর্মকাণ্ডড়যেখানেই তিনি কাজ করেছেন, সেখানেই সততা, নিষ্ঠা এবং মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর বিনয়ী ব্যক্তিত্ব, সহজ ব্যবহার এবং মানুষের প্রতি আন্তরিকতা তাঁকে সর্বস্তরের মানুষের কাছে শ্রদ্ধেয় করে তুলেছে।

ভুপেন হাজারিকা গানে বলেছেন “মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।” এই মানবিক চেতনাই যেন সুলতান মাহমুদুর রহমান বাবুর জীবনসংগ্রামের মূল সুর। তিনি বিশ্বাস করেন, মানুষের কল্যাণে নিবেদিত প্রতিটি কাজই দেশপ্রেমের সর্বোচ্চ প্রকাশ।

আজকের বাংলাদেশে যখন সহমর্মিতা, নৈতিকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা আরও শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন, তখন সুলতান মাহমুদুর রহমান বাবুর মতো ব্যক্তিত্ব আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর কর্মময় জীবন আমাদের শেখায় ক্ষমতা নয়, মানুষের ভালোবাসাই একজন মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁর জীবন থেকে দেশপ্রেম, মানবতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের শিক্ষা গ্রহণ করে একটি সুন্দর, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবেঃ এই প্রত্যাশাই সর্বজনীন।