• ২৮শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ১৩ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ১৪ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

এস এম খালেদ

Editorial panel
প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৫
এস এম খালেদ

এস এম খালেদ ‘সারা লাইফস্টাইল লিমিটেড’ ও ‘স্নোটেক্স’র প্রধান উদ্যোক্তা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এক সময় সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কখনো ভাবেননি সেখান থেকে গার্মেন্টস শিল্পের ব্যবসায় নামবেন। ২০০০ সালে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন ব্যবসা। প্রথমদিকে সফল না হলেও, এক পর্যায়ে ঠিকই সাফল্যের দেখা পান। বর্তমানে তার ৫টি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ১১ হাজার কর্মী। ১৯ বছরের ব্যবসায়ী জীবনে পেরিয়ে এসেছেন বহু উত্থান-পতন।
তার কর্মজীবন শুরু হয়েছিল সাংবাদিকতা দিয়ে। ‘ন্যাশনাল টুডে’ নামে একটি পত্রিকার রিপোর্টার ছিলেন। সে সময় ওটাই ছিল তার জন্য বিশাল এক প্ল্যাটফর্ম। কখনো চিন্তাও ছিল না ব্যবসায় আসার। সাংবাদিকতা পেশাতেই থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বহুবিধ কারণে আর সাংবাদিকতা করা হয়ে ওঠেনি। এক পর্যায়ে বায়িং হাউজের চাকরি শুরু করেন। এক-দেড় বছরের অভিজ্ঞতা নেই। পরে কয়েক বন্ধু মিলে গার্মেন্টসের লেভেলসের ব্যবসা শুরু করেন। দুই বছর গার্মেন্টসে লেভেলস সাপ্লাই করেন। এরপর নিজেরাই গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। অনেক চেষ্টা করে গার্মেন্টস শিপমেন্ট করার একটি অর্ডার পেলেন। প্রথম অর্ডারের কাজ ভালো হওয়ায় একে একে আরো অর্ডার আসতে শুরু করলো। তিন বছরের মধ্যে আমাদের ব্যবসা আরো ভালো হলো। এক আমেরিকান বায়ারই ফ্যাক্টরি ও মেশিনপত্র কিনে দেন। ১৮ বছর যাবৎ আমি এখনো ওই বায়ারেরই কাজ করছি। শুরু দিকে ব্যাংকের সাপোর্টের ২ কোটি ও মেশিন কেনার জন্য ৩ কোটি টাকা দিয়েছিলেন।
একদম শুরুটা অনেক কঠিন ছিল। কারণ, কারখানা লাইনগুলোতে নিয়মিত কাজ করাতে পারছিলেন না। নিয়মিত ক্লায়েন্টদের টাকা দিতে পারতেন না। পরে যখন প্রথম ফ্যাক্টরি শুরু করলাম তখন কাজ করার স্বাধীনতা পেলেন। তখন সাপ্লায়ারদের নিয়মিত টাকা দিতে শুরু করলেন। এখন ব্যবসা নিয়মতান্ত্রিকভাবে হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ফ্যাক্টরিতে ১০৬টি লাইনে কাজ হয়। বর্তমানে বড় আর একটি ফ্যাক্টরিও তৈরি করছেন। এ ফ্যাক্টরিতে কাজ শুরু হলে, ১৮০টি লাইনে কাজ হবে। বর্তমানে আমার পাঁচটি প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার কর্মী কাজ করছে। নতুন ফ্যাক্টরি চালু হলে সব মিলিয়ে ১৮ হাজার কর্মী কাজ করবে। তখন ব্যবসা হবে ২৫০ মিলিয়ন ডলার। দেড় বছর আগে সারা লাইফস্টাইল লিমিটেডের জন্য শো-রুম নিয়েছেন। দেখতে দেখতে এখন সারা’র পাঁচটি শো-রুম হয়ে গেছে।
বাকিটা তার ভাষায় শুনুন-
আমরা যাদের সঙ্গে ১৮ বছর আগে ব্যবসা শুরু করেছিলাম তাদের আমেরিকায় ফ্যাক্টরি ছিল। আমার আমেরিকান বায়ারের কানাডাতেও ফ্যাক্টরি আছে। তারা যে কোনো সময় কানাডাতে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিতে পারে। ১০ থেকে ১২ বছর আগে আমি তাদের সঙ্গে পার্টনারশিপে ছিলাম। তারা আমেরিকার ফ্যাক্টরি বন্ধ করে দিয়েছে। আমি দু’বছর আগে ফ্রান্সে গিয়েছিলাম। তখন জানতে পারি ফ্রান্সের লিন নামে একটি জায়গায় ৩০ বছর আগে শত শত গার্মেন্টস ছিল। কিন্তু একটা সময় সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। আমাদের এখানে লাইফস্টাইল ব্যবসা ভালো হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ বছর পরে হয়তো দেখবো গার্মেন্টসগুলো ভালো ব্যবসা করতে পারছে না। তখন হয়তোবা ইলেকট্রনিক বা অন্য কোনো ব্যবসা ভালো হবে। আমরা আমাদের পরের জেনারেশনকে কোন ব্যবসা দিয়ে যাবো? ব্যবসা না থাকলে আমরা কী করব? সেই ভাবনা থেকেই সারা লাইফস্টাইল। গত ২০ বছর ধরে আমরা যে ব্যবসাটা শিখলাম, সেই ব্যবসাটা একই ট্রেডে নেওয়ার জন্যই আমরা সারা লাইফস্টাইল লিমিটেড শুরু করেছি।
গত দেড় বছর ধরে আমরা শিখছি ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং ও ফ্যাশন। আরো শিখতে হবে আমাদের। শেখার মধ্য দিয়ে সারা লাইফস্টাইল লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হবে। এখন থেকে দশ বছর পরে সারা অনেক শক্তিশালী হবে। স্নোটেক্স ধীরে ধীরে দুর্বল হবে। সে জন্যই আমাদের সারা’র যাত্রা শুরু করা।
সারাকে নিয়ে আমার স্বপ্ন অনেক বড়। ফ্রান্সে যারা শেষ পর্যন্ত গার্মেন্টস ব্যবসা করেছিল তারা সর্বস্ব হারায়। যেসব কোম্পানি রিটেইলে যায়, তারাই এখন আমাদের বড় বায়ার। তাদের জন্যই আমরা পণ্য তৈরি করছি। আমরাও আমাদের ব্যবসাটিকে (সারা) বড় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারবো। বাংলাদেশ রিটেইল স্টোরের জন্য ব্যবসা করছি। রিটেইল স্টোর পর্যায়ে আমাদের ব্যবসা নিয়ে যাওয়া সম্ভব। ১০ থেকে ১৫ বছর পর আমরা সারাকে এরকম একটা পর্যায়ে নিয়ে যাবো।