• ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ , ৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ , ৪ঠা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

শাহ মুহাম্মদ আব্দার রাজ্জাক চৌড়াহভী

Editorial panel
প্রকাশিত আগস্ট ২১, ২০২৬
শাহ মুহাম্মদ আব্দার রাজ্জাক চৌড়াহভী

রতন আব্দাল্লাহ শাহ (মূল নাম: শাহ মুহাম্মদ আব্দার রাজ্জাক চৌড়াহভী) সমকালীন বাংলা ও ইংরেজি কবিতার জগতে এক সম্ভাবনাময় ও স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর। তিনি ঐতিহ্যবাহী অভিজাত বংশের সন্তান; বংশানুক্রমিক ধারায় তিনি তুঘলক বংশের ১৩ তম পুরুষ। তাঁর পিতা ছিলেন শাহ মুহাম্মদ আব্দুর রাকিব ভূঁইয়া আকি মিঞা, যিনি পেশায় একজন বিদেশী কোম্পানির উচ্চপদস্থ চাকরিজীবী ছিলেন এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন। তাঁর উচ্চ শিক্ষিতা মা মুসাম্মৎ তাবিন্দা আক্তার খানম হেনা ও আম্মা ফূরকান আক্তার খানম চায়না তাঁকে নৈতিকতা ও শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলেন।।

তাঁর দাদা ছিলেন বিশিষ্ট জমিদার, অধ্যাপক ও চিকিৎসক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ আব্দুর রউফ ভূঁইয়া আল হাশমি (১৮৫৪–১৯১৮)। অন্যদিকে, তাঁর নানা আবুল মুঘল খান মদন মিঞা ব্রিটিশ ক্রাউনের অধীনে একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার তার নানার ছোট ভাই যুগ্ম সচিব ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমেদ খান,হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী পরিবারে বিয়ে করেন।।

১৯৫১ সালের ২ মে(স্কুলে দেয়) গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভাওয়াল রাজ্যের আদি রাজধানী হিসেবে খ্যাত ‘চৌড়াহ শাহদেরগাঁও’ গ্রামের (ভাদগাতি মৌজা)হলেও মাতুলায় ছৈলাদী গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর শৈশব ও কৈশোর কেটেছে প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্যে, যা পরবর্তীকালে মানবতার আদর্শকে প্রাধান্য দিয়ে তাঁর ভাবনালোক ও কাব্যজগৎ গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছে। তিনি কালিগঞ্জ পাইলট স্কুল জীবনে নিজ বাড়িতে নিজ রচিত নাটক মঞ্চস্থ্য করতেন পারিবারিক পরিমণ্ডলে ও আপনদের বৃত্তে।পিতার অকাল ইন্তেকালে পরিবারের বড় সন্তান হিসেবে বিধবা মাতাসহ নয় সদস্যের পরিবারের দায়িত্ব নিয়ে তিনি তা নিষ্ঠার সাথে পালন করেন এবং আত্মীয় ও স্বজনদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় হয়ে ওঠেন।

শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বোর্ড থেকে প্রবেশিকা (এসএসসি) ও উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিনে ইতিহাসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি সুইডেনের স্টকহোম বিশ্ববিদ্যালয় এবং কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। সেখানে দীর্ঘ সময় বিভিন্ন সামাজিক সেবামূলক কার্যক্রমে ও ইসলামী সংগঠনে যুক্ত থাকার কারণে তাঁর পিএইচডি সম্পন্ন করা অপূর্ণ থেকে যায়।।

উদীয়মান তারুণ্য থেকেই তিনি ঐতিহ্যবাহী ‘পূর্ণীমা বাসর’-এর কনিষ্ঠতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। জ্ঞানচর্চা ও জীবনদর্শনে তিনি মহাবিপ্লবী জাগরণের বিপ্লবী কবি বে-নজীর আহমদ, কবি আবদুল কাদির, ফররুখ আহমদ, গোলাম মোস্তফা এবং বেগম সুফিয়া কামালের মতো বরেণ্য সাহিত্যিকদের নিবিড় সংস্পর্শে এসেছেন এবং তাঁদের আদর্শে উজ্জীবিত হয়েছেন।

বহুমাত্রিক পেশাজীবনে রতন আব্দাল্লাহ পূর্ব পাকিস্তান ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটে সহকারী গ্রন্থাগারিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরসির(৭৭ ব্যেচ) অধীনে জনতা ব্যাংকের একজন সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং দেশের প্রথম সুদমুক্ত ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ’-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অন্যতম ও প্রথম ইসলামী ব্যাংকার হিসেবে যুক্ত থেকে সফলভাবে কর্মজীবন অতিবাহিত করেন।

পরবর্তীতে কানাডায় শিক্ষকতা ও গবেষণার পাশাপাশি তিনি দীর্ঘ সময় ধরে ওখানকার আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করেন এবং তাঁর কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী এডভোকেট ব্রায়ান মার্লনি-এর এবং আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাজনৈতিক জ্যকার্তের প্রিয়ভাজন ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। এমসিকিউ মন্ট্রিয়ালে উইকেন্ড ইস্কুলের পরিচালক ছিলেন।প্রবাসে দীর্ঘ অবস্থানকালে তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন; তিনি কানাডায় ‘ইসলামী ফোরাম’-এর চেয়ারম্যান এবং ‘মুসলিম উম্মাহ কানাডা’-এর সভাপতি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও তিনি সরকারিভাবে দীর্ঘ ১২ বছর ‘কানাডিয়ান ডিটেনশন’-এর ভাইস-চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি কানাডার রাজধানী অটোয়ায় ‘দেশ আমার’ নামক একটি জনপ্রিয় টেলি জার্নাল প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইংরেজি জানা ভালো বক্তা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামে তথ্যবহুল বক্তব্য দিয়ে তিনি খ্যাতি অর্জন করেন।

পেশাগত জীবনের বাইরে সক্রিয় সমাজসেবা তাঁর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। একটি সুস্থ সমাজের প্রতি গভীর দায়বদ্ধতা থেকে এবং জ্ঞানচর্চা ও বিকাশের লক্ষ্যে দেশে এসে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন সমাজকল্যাণমূলক সংস্থা “অঙ্কুর মেধা প্রতিভা অভিভাবক পরিষদ” এর এখনো চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বরত আছেন। তবে কর্মক্ষেত্রের ব্যস্ততার মাঝেও লেখালেখি ও সাহিত্যচর্চায় নিবিষ্ট থাকাই তাঁর মূল ধ্যান-জ্ঞান।

বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষের জীবনের টানাপোড়েন, প্রেম, বিরহ, নাগরিক ক্লান্তি এবং প্রকৃতির শাশ্বত রূপ তাঁর কবিতার মূল উপজীব্য। সহজ ও সাবলীল শব্দের বুননে গভীর জীবনবোধ ফুটিয়ে তোলাই তাঁর লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। ‘কবিতার আলো’ কবির প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ। সাহিত্যচর্চায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘দৈনিক স্বাধীন সংবাদ পুরস্কার ২০২৬’-এ ভূষিত হন।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও সাহিত্য সাময়িকীতে নিয়মিত লেখার পাশাপাশি তিনি চ্যানেল এস টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আগামীর বাংলাদেশ’-সহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে বিষয়ভিত্তিক আলোচনায় নিয়মিত বিশ্লেষক ও আলোচক হিসেবে অংশ নেন। ব্যক্তিজীবনে নিভৃতচারী এই কবি সর্বমহলে একজন জ্ঞানী, ইতিহাসবিদ, সমাজ ও সংস্কৃতি বিশ্লেষক এবং বিশ্ব-ভ্রমণপিপাসু ও বিভিন্ন সেবাদানকারী মানুষ হিসেবে সমাদৃত হয়ে আছেন। কুরআন মাজিদ ও ধর্মতত্বের উপর অগাধ জ্ঞান ও বিশ্লেষক হিসেবে সমাদৃত ভাগ্যবান।তার সর্বাঙ্গীন সফলতার সোপানে উঠার জন্য লুকিয়ে থাকা মানুষটিকে প্রতিভাত হতে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।